মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-১০-২০২৬ ০৮:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-১০-২০২৬ ০৮:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সরাসরি অনুপস্থিতি এবং অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহত শিশুটির নাম আভান। তার বাবা মৃদুল ইসলাম একজন গণমাধ্যমকর্মী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে আভানকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গুর আশঙ্কা করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করেন। তবে পরিবারের দাবি, পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবারই ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপরও শিশুটিকে ডেঙ্গু-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২ অক্টোবর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত না থেকে ফোনে নির্দেশনা দিয়ে চিকিৎসা পরিচালনা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।
স্বজনদের ভাষ্য, আইসিইউতে নেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে আভানের মৃত্যু হয়।
শিশুটির পরিবার জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এর পর শিশুটির শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে ‘শক সিনড্রোম’-এর মতো জটিলতা তৈরি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও কেস সামারি চাওয়া হলেও শুরুতে তা দিতে গড়িমসি করা হয়। পরে স্বজনদের চাপের মুখে প্রয়োজনীয় কিছু নথি সরবরাহ করা হয়েছে বলে তারা জানান।
স্বজনদের দাবি, সরবরাহ করা চিকিৎসা-নথিতে শিশুটির রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এবং শক সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শিশুটির মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসা হয়েছিল কি না, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা যথাযথ ছিল কি না এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না- এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সঙ্গে কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স